পারিজাত
পারিজাত
  • মূলপাতা
  • চিত্রকলা
  • ভ্রমন
  • অন্যান্য
    • অন্দরমহল
      • রান্নাঘর
      • নারীর জগৎ
      • শিশুর জগৎ
    • বইপত্র
    • সঙ্গীত
    • ছবির জগৎ
    • গল্পকথা
  • যোগাযোগ




অতিমারির দুর্যোগে শিশু থেকে বৃদ্ধ প্রায় প্রত্যেকেই অল্প বিস্তর অবসাদ ও বিষণ্ণতায় আক্রান্ত। দীর্ঘদিন গৃহবন্দী জীবনে দমবন্ধ পরিস্থিতি আমাদের মন ভারাক্রান্ত করে তুলছে। মানসিক অবসাদ শারীরিক সমস্যার সৃষ্টি করছে। মন ভালো রাখার জন্য আমাদের তাই আমাদের দৈনন্দিন জীবনে কিছু বিষয় মেনে চলতে হবে। তাহলেই আমরা এই কঠিন পরিস্থিতির মোকাবিলা খুব সহজেই করতে পারব।

 
  • প্রাণ খুলে শিশুর মত হাসুন। হাসি সব অসুখ সারিয়ে দেয়। খুব কষ্টের মধ্যেও যদি হাসা যায় মন ভালো হবেই।
  • গলা ছেড়ে গান করুন। সুরেলা বেসুরো বেতালা কিচ্ছু নজর দেওয়ার দরকার নেই।
  • বিশেষজ্ঞরা বলেন নাচের মত মন ভালো রাখার ওষুধ আর কিছু হয়না। মাঝে মাঝে একটু আধটু নেচে নেবেন। একার মনে কিছুক্ষণ পাগলামো করা ভালো। মন উৎফুল্ল থাকে।
  • নিজের শখ- ভালোলাগা - পছন্দকে গুরুত্ব দিতে হবে। নিজেকে ভালোবাসতে হবে।
  • প্রত্যয়ী হন। আপনিও সব করতে পারেন। দরকার শুধু একটু অধ্যবসায় ও সৎ চেষ্টার।নিজের ওপর ভরসা ও বিশ্বাস দুই-ই রাখুন।
  • স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। শরীর ভালো তো মন ভালো।
  • কৃতজ্ঞতা স্বীকার করার ক্ষমতা ও মানসিকতা রাখতে হবে। খুব ছোট্ট উপকারের জন্যও কৃতজ্ঞতা জানান।
  • অন্যের জন্য খুব সামান্য হলেও সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন। কিন্তু নিজের স্বার্থহানী না ঘটিয়ে। অন্যের ভালো করলে মনে এক ধরনের প্রশান্তি আসে।
  • অন্যের ক্ষতি করার চিন্তা মনেও আনবেন না।কথায় আছে অন্যের জন্য খুঁড়ে রাখা কুয়োতে নিজেকেই পড়তে হয়।
  • সব কিছু নিয়ন্ত্রন করার চেষ্টা করবেন না। সব কিছু আমাদের নিয়ন্ত্রনাধীন হয়না, সম্ভব না। কিছু জিনিস ছেড়ে দিতে হয়। সব কিছু নিজের ইচ্ছা অনুযায়ী করার চেষ্টা করলে নিজেদের মানসিক অশান্তিই শুধু বৃদ্ধি পায়। যেটুকু নিয়ন্ত্রন করা সম্ভব সেইটুকুতেই মনঃসংযোগ করা ভালো।
  • নিজের দোষ গুন সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা উচিত। যে কোনও ঘটনায় আগে নিজেকে বিশ্লেষণ করলে ভালো। যেকোনও বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানানোর আগে পুরো বিষয়টিকে ভালো করে ভেবে দেখুন। হয়তো ঘটনার তীব্রতা বেশি নয়। অকারনে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে দিলে শেষে মনঃকষ্টে আপনাকেই ভুগতে হবে।
  • মাঝেমধ্যে দৈনন্দিন নিয়ম থেক ছুটি নিন। একঘেয়ে জীবন মনঃকষ্টের অন্যতম কারন। কিছু সময় নিয়ম ভাঙ্গার মজাই আলাদা হয়।
  • কখনও কখনও ছোটখাটো কেনা কাটা করুন। কেনার কিছু না থাকলে window shopping করুন। তাতেও মন ভালো হয়ে যায়।
  • সামাজিক মাধ্যম একটি মিথ্যার জগৎ। তাকে সত্যি ভেবে নিজের জীবনকে তার সাথে জড়িয়ে জটিল না করারই উচিত। সামাজিক মাধ্যম থেকে দুরে থাকুন। থাকলেও সহজ ভাবে নিন। অন্যের সাথে তুলনা করে মাথা খারাপ করবেন না।
  • নিজের পছন্দের ভালোলাগার ভালোবাসার মানুষদের সঙ্গে সময় কাটান। যখনই একটু সময় পাবেন চেষ্টা করুন তাঁদের সঙ্গ দিতে বা সঙ্গে থাকতে।
  • প্রত্যাখ্যান মানতে শিখুন। জীবনে হার-জিত থাকবেই। হেরে যাওয়াকে নিয়ে জীবন বলে ভেবে হা-হুতাশ করে সময় নষ্ট না করে আবার নতুন উদ্দ্যমে শুরু করুন। এগিয়ে যাওয়ার নাম জীবন। বাধা তো আসবেই।
  • বর্তমানে প্রেম একটি অত্যন্ত আলোচনার বিষয় হয়ে গেছে।প্রেমে প্রত্যখ্যান যেন জীবনের বিশাল এক না পাওয়া ব্যাপার। প্রেম না আসা বা বিচ্ছেদ যেন বিশাল এক ক্ষতি। দয়া করে প্রেমকে এত গুরুত্ব না দিলেও হবে। যদি ভালোবাসার মানুষের আসার হয় আসবে, থাকার হয় তো সারা জীবন থাকবে, নাহলে চলে যেতে দিন, তপস্যা করে আনার চেষ্টাও করার দরকার নেই। না হলে ভেঙ্গে পড়ারও দরকার নেই। যদি প্রেমে পড়েন তাহলে সৎ থাকুন, সম্পর্ককে দাম দিন, সময় দিন, গুরুত্ব দিন। ভালো থাকবেন।
  • সবশেষে বলব - মন থাকা মানেই মনঃকষ্ট হওয়া। বলা হয় দুঃখ কষ্ট যন্ত্রণা ব্যথা বোধ একমাত্র মৃতদের থাকে না। অর্থাৎ জীবনের আর এক নাম যন্ত্রণা। তাই মনবেদনাকে সহজ ভাবে নিন। তীব্রতা বেশি হোক কম হোক, কষ্টকে কিকরে আনন্দে পরিবর্তন করা যায় তা খুঁজে বার করুন। আপনার আনন্দ আপনিই খুঁজে পেতে পারেন। বন্ধু বা বিশ্বস্ত মানুষকে কষ্টের কথা বিনা দ্বিধায় বলুন। প্রাণ খুলে কাঁদুন। কোনো প্রকারের ভয়কে পাত্তা দেবেন না। সব সমস্যারই সমাধান থাকে। শুধু একটু ধৈর্য ধরে তা খুঁজে নিতে হয়। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ নিন। মানসিক অসুস্থতাও এক ধরনের অসুখ। লজ্জার কোনো কারণ নেই।সবার হতে পারে। প্রয়োজনে চিকিৎসা দরকার। শুধু নিজের মনে গুমরে কষ্ট বাড়িয়ে জীবন শেষ করার কথা একেবারেই মনে আনবেন না। দুটো কথা সব সময় মনে রাখবেন - এক আপনার একটা ভুল পদক্ষেপ আপনার প্রিয়জনদের জীবন নষ্ট করে দেবে। তাঁদের জীবনও শেষ হয়ে যাবে। দুই- আপনার থেকেও অনেক বড় সমস্যা নিয়ে বহু মানুষ প্রতিদিন জীবন সংগ্রাম করে যাচ্ছেন। তাই আত্মহত্যা করা কোনো সমস্যার সমাধান নয়। নিজের মনকে ভালো রাখার চাবিকাঠি আপনার হাতেই আছে। শুধু একটু নজর মেলে দেখার অবকাশ টুকুই চাই। 

কুনফু চিকেন 



কুনফু চিকেন হাণ্ডি

উপকরনঃ

  • চিকেন — ৫০০ গ্রাম ( পাতলা পাতলা করে টুকরো করা)
  • পেঁয়াজ — ২৫০ গ্রাম ( সরু কুচি করা )
  • আদা — ২৫ গ্রাম ( কুচি করা)
  • রসুন — ২৫ গ্রাম (লম্বা সরু কুচি করা)
  • লঙ্কা কুচি — স্বাদ মত
  • ক্যাপসিকাম — ৫০ গ্রাম (লম্বা সরু কুচি করা)
  • গাজর — ৫০ গ্রাম (লম্বা সরু কুচি করা)
  • টমেটো সস — ৫০ মিলি
  • সোয়াসস — ৫০ মিলি
  • সাদা তেল / মাখন — ৫০ মিলি
  • শুকনো লঙ্কা — ২ টি
  • চিলি ফ্লেক্স — ২/৩ চামচ
  • গোলমরিচ গুঁড়ো — ৪/৫ চামচ
  • নুন — স্বাদ মত
  • চিনি — ১ চামচ



প্রনালীঃ

  • চিকেণের টুকরোতে অল্প নুন আর গোল মরিচগুঁড়ো মাখিয়ে রাখতে হবে।
  • কড়াইতে তেল গরম হলে চিকেনের টুকরো লাল করে ভেজে নিয়ে তুলে নিতে হবে।
  • এরপর আঁচ কমিয়ে, দু'চামচ তেল বা মাখন দিয়ে প্রথমে শুকনো লঙ্কা একটু পুড়িয়ে ভাজতে হবে। এরপর ক্রমান্বয়ে আদা কুচি, গাজর, পেঁয়াজ হালকা ভাজতে হবে।
  • অল্প নরম হয়ে ক্যাপসিকাম ও চিনি দিয়ে ২ মিনিট অল্প ভাজতে হবে।
  • সব সব্জী ভাজা হলে দু'রকম সস মিশিয়ে দিতে হবে। আধা কাপ উষ্ণ জল মেশাতে হবে।
  • চিকেনের টুকরো আর রসুন কুচি মিশিয়ে দিয়ে ঢাকা দিয়ে ৫ মিনিট কম আঁচে রাখতে হবে।
  • সব মিশে গেলে ৩/৪ চামচ গোলমরিচ গুঁড়ো দিয়ে নামাতে হবে।
  • গরম ভাত বাঁ রুটির সাথে পরিবেশন করতে হবে। 
ভালো থাকুন। খেতে থাকুন। 🍀

চিত্র সৌজন্যঃ নিজস্ব 


 

শেষ ছোঁয়া

লেখিকা -- শ্বেতলীনা 




ভোরবেলার এক টুকরো মিঠে রোদ সহেলীর মুখের ওপর এসে পড়ে মুখটা আরও নমনীয় করে তুলছে। অবসন্ন চোখে সহেলী জানলা দিয়ে দূরের দিকে তাকিয়ে আছে। যেন একদৃষ্টিতে যতদূর যেতে পারে চলে যেতে চাইছে। দৃষ্টি দিয়েই ঘুরে আসতে চাইছে।রোগে ভোগা ফ্যাকাশে ক্ষীণ শরীরে রোদ মেখে নিয়ে সতেজ হতে চাইছে। কোমর ছাপান চুলের এলোমেলো বিনুনিটা অনাদরে পিঠের ওপর থেকে নেমে এসে বিছানায় লুটিয়ে আছে। দু’হাতের সরু সরু আঙুলগুলো একে অপরকে জড়িয়ে ধরে আলগোছে কোলের উপর এলিয়ে আছে।

সকালের চা বানাতে বানাতে অর্ণব রান্নাঘর থেকে সহেলীকে দেখে একটু হালকা নিঃশ্বাস ফেলে। মাত্র তিন বছর হল বিয়ে হয়েছে ওদের।দু’জনেরই কর্ম ব্যস্ততাময় জীবনের দেড় বছরের মাথায় হঠাৎ একদিন সহেলী অজ্ঞান হয়ে গেল অফিসে। খবর পেয়েই ছুটে যায় অর্ণব। তারপর গত দেড় বছর তাঁদের শুধুই কেটেছে হাসপাতাল আর বাড়ি করে। প্রাণ প্রাচুর্যে ভরপুর, হাস্যোজ্জ্বল সহেলীর জীবন থমকে যায় সেই থেকে।দুরারোগ্য স্নায়বিক এক রোগ। যা ধীরে ধীরে সহেলীকে করে দিয়েছে চলৎশক্তিরহিত। এখন শুধুই প্রতীক্ষা সেরে ওঠার।সেরে উঠতেই চায় সহেলী। যদিও জানেনা আর কখনো সেরে উঠে আগের জীবন ফিরে পাবে  কিনা।

অর্ণব চা নিয়ে এসে পাশে বসে। হাতে সকালে খাওয়ার জন্য কয়েকটা ওষুধ।ওষুধগুলো হাতে নিয়ে ফিকে হাসে সহেলী। যেন বলতে চায় এই সম্বল এখন। সমস্ত স্বপ্নগুলো মুছে যাচ্ছে যেন। কিন্তু কিছু না বলে ওষুধগুলো নিঃশব্দে গিলে ফেলে।

অর্ণব চা এগিয়ে দিয়ে একটু হেসে বলে –” আজ কি খেতে ইচ্ছা করছে বলো? যা বলবে তাই বানাবো?নিজে বানাবো। মাসিকে আজ ছুটি দিয়েছি।আজ তোমার সাথে একা থাকতে ইচ্ছা করলো, তাই।”

সহেলী চুপ থাকে।কি যেন ভাবে। বলে ওঠে – “আমাকে একবার সুবর্ণরেখা দেখাতে নিয়ে যাবে?”

চমকে উঠে তাকায় অর্ণব।সহেলীর দু’চোখে তখন সুবর্ণরেখার ধারা।অর্ণবের ছেলেবেলা কেটেছে রাঁচিতে। বাড়ির পাশেই সুবর্ণরেখা।সহেলী অনেক গল্প শুনেছে অর্ণবের কাছে। স্থানীয় বিশ্বাস নদীর বালি থেকে সোনা পাওয়া যায়। কিন্তু সহেলী যেতে চায় অন্য কারণে। অর্ণবের থেকে শোনা মায়াবী চাঁদের আলোতে ভেসে যাওয়া সুবর্ণরেখার তীরে গিয়ে বসতে চায় সহেলী।অনেক বছর ধরেই যাওয়ার ইচ্ছা। কিন্তু সময় হয়ে ওঠেনি। এখন শরীরের এই অবস্থায় সহেলীর পক্ষে এতদুর যাওয়া প্রায় অসম্ভব। তাও অর্ণব মাথা একদিকে কাত করে বলে, “ নিশ্চয়ই নিয়ে যাব। একটু সেরে ওঠো, তারপর।“

“ না এখনি নিয়ে চল। কদিন ধরে খুব যেতে ইচ্ছা করছে।রাতের সুবর্ণরেখা দেখতে ইচ্ছা করছে।তুমি বলেছিলে।“ জেদ করে সহেলী।

“ এখন তো তুমি যেতে পারবেনা।কষ্ট হবে যে।ক'দিন যাক, তারপর ঠিক নিয়ে যাব।“ অর্ণব বোঝাতে চায়।

“ আর দেরী করলে যদি যাওয়াই না হয়? চাঁদের আলোয় আমার আর তাহলে সুবর্ণরেখা দেখা হবেনা। “ সহেলী মাথা ঘুরিয়ে জানলার বাইরে দৃষ্টি ছড়িয়ে দেয়।

অর্ণব নিরুত্তর থাকে। জবাব হাতড়াতে হাতড়াতে সামাল দিতে থাকে বুকে ওঠা প্রবল ঝড়কে।অতি কষ্টে জবাব দেয়,”তা কেন? ঠিক নিয়ে যাব তোমায়।“

সহেলী নিজের মনেই বলে ওঠে,” চাঁদের আলোয় চারিদিক ভরে থাকবে। নদী তীরের বালিতে চাঁদের আলো পড়ে চিকচিক করবে। জলের মৃদু আওয়াজ যেন আমাদের ভিজিয়ে দিয়ে যাবে। আমি আর তুমি পাশাপাশি বসে থাকব। নদীর থেকে ভেসে আসা ঠাণ্ডা হাওয়া আমাদের মন শান্ত করে দেবে। তোমার কাঁধে মাথা দিয়ে আমার চোখ বুজে আসবে। তুমি ভরাট গলায় গাইবে।তোমার গান চারিদিকে ছড়িয়ে পড়বে। আমি শুনেই যাব। তুমি গেয়েই যাবে। কতদিন তোমার গান শুনিনি। নিয়ে চল আমায়। নদী যেন ডাকছে আমায়।“

*** 

তিন বছর পর। অর্ণব বসে আছে সুবর্ণরেখার তীরে।তিন বছর আগে আজকের রাতে সুবর্ণরেখার তীরে চাঁদের আলো গায়ে মেখে,নদীর কলতানে খুশি হয়ে, অর্ণবের কোলে মাথা রেখে গান শুনতে শুনতে মুগ্ধ সহেলী ঘুমিয়ে পড়েছিল। সে ঘুম আর ভাঙ্গেনি। অর্ণব প্রতিবছর এই দিনে নদীর তীরে ফিরে ফিরে আসে। প্রিয়তমার শেষ মুহূর্তের ছোঁয়া পাওয়ার আশায়।


চিত্র সৌজন্যঃ https://anime.goodfon.com


 

 মনে রাখার মত কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপদেশ 

  • সুন্দর জীবনের মূল কথা হল সুন্দর স্বাস্থ্য । সর্বাগ্রে স্বাস্থ্য সচেতন হতে হবে।
  • মিথ্যা কথা বলা পরিত্যাগ করতে হবে। কারও পক্ষেই সম্পূর্ণ সত্যবাদী হওয়া সম্ভব নয় ঠিক, কিন্তু অকারণে অযথা মিথ্যার আশ্রয় না নেওয়াই উচিত। জীবনের অর্ধেক জটিলতা কমে যায়।
  • নির্মল জীবনের জন্য মানসিক শান্তির প্রয়োজন।মানসিক শান্তি নষ্ট হয় এমন কাজ না করাই উচিত। নিজেও ভালো থাকুন অন্যকেও ভালো থাকতে দিন।
  • পরিবারের প্রতি মনোযোগী হতে হবে। সারাদিনে কিছু সময় অবশ্যই পরিবারকে দিন।
  • জীবনসঙ্গী বা সঙ্গিনীর প্রতি সৎ ও বিশ্বস্ত থাকুন। যে মানুষটি আপনার সুখে দুঃখে আপনার পাশে থাকেন তাঁকে তাঁর ন্যায্য মর্যাদা দেওয়া উচিত।
  • অর্থ জীবনের সবকিছু নয় ঠিক। কিছু অর্থ অবহেলা করার বস্তুও নয়। আয় - ও ব্যয়ের সমতা রাখা উচিত।
  • কষ্ট, দুঃখভোগ করাই জীবন। তাই সুখের সময় নিজেকে তৈরি রাখা উচিত কষ্ট পাওয়ার জন্য।এতে জীবন সরল হয়।
  • যে সম্পর্ক থেকে ভালোবাসা, সন্মান, মর্যাদা নষ্ট হয়ে গিয়ে শুধু তিক্ততা, অসম্মান, অমর্যাদা অবশিষ্ট থেকে গেছে — যে সম্পর্ক বিষাক্ত হয়ে গেছে তা যথা শীঘ্র সম্ভব ত্যাগ করা উচিত।
  • যে কোনো বিষয়ে সব সময় খুঁত বার করে অভিযোগ করার অভ্যাস ত্যাগ করাই ভাল। কোনো ব্যক্তি বা বস্তুই সম্পূর্ণ নিখুঁত হতে পারেনা। আমরা প্রত্যকেই ভালো মন্দের সংমিশ্রণে তৈরি। মন্দ না খুঁজে ভালোকে দেখতে শিখুন।
  • অন্যের ক্ষতির চেষ্টা কখনো না করাই উচিত। তাতে নিজের ক্ষতির সম্ভাবনা বেড়ে যায়। কর্মফলে বিশ্বাসী হতে হবে।
  • সবশেষে বলব নিজেকে দাম দিতে হবে। কাউকে এত বেশি মূল্যবান করে না তোলাই উচিত যে নিজে মূল্যহীন হয়ে পড়েন। স্বার্থপর হওয়া দোষের না।বর্তমানে আগে নিজেকে বাঁচাতে জানতে হবে।

জীবনকে সুন্দর করে তোলার কিছু উপায় 

সুন্দর জীবন আমাদের সবার কাম্য। কিন্তু জীবনকে সুন্দর করে তুলতে আমাদের ঠিক কি করা উচিত সে বিষয়ে আমরা অনেকেই মনস্থির করে উঠতে পারিনা। আজ সুন্দর জীবন পাওয়ার জন্য  যে ছোট ছোট যে কাজগুলো করা উচিত সেই বিষয়ে বলি। 

  • রোজ ভোরে বাড়ির সবার ঘুম ভাঙার খানিকটা আগে নিজে উঠে পড়ুন। এই সময়টা সম্পূর্ণ ভাবে নিজে দিন। শুধু নিজেকে নিয়ে থাকুন — "আমার সাথে আমি" । এই বিষয়ে স্বামীজির একটি বাণী আমি খুব মানি।
" সারাদিনে একবার অন্তত নিজের সাথে কথা বলা উচিত।নাহলে তুমি একজন অসাধারণ মানুষের সাথে দেখা করার সুযোগ হারাতে পারো।" 
  • নিজের জন্য এক কাপ চা বা কফি করে নিন এই সময়। সারাদিন কি কি কাজ করবেন তার একটা মোটামুটি খসড়া করে নিন মনে মনে । এতে সারাদিনের কাজ সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন করতে অসুবিধা হবে না। নিজের পছন্দের কাজগুলোর জন্যও সময় বেরিয়ে আসবে।
  • সারাদিনের মধ্যে খুব সামান্য একটু সময় অন্তত ১৫ মিনিট প্রকৃতির সাথে কাটান।২০১০ সালে Journal of Environmental Psychology তে প্রকাশিত এক গবেষনায় দেখা দেখা প্রতিদিন যাঁরা অন্তত ১৫ থেকে ২০ মিনিট প্রকৃতির সাথে কাটান তাঁরা প্রাণশক্তিতে ভরপুর হন।এমন কি কাজের ফাঁকে কয়েক মুহুর্তের এক টুকরো প্রকৃতির ছোঁয়া — যেমন ঘাসে পা ফেলে হাঁটা বা খোলা আকাশের দিকে কয়েক মুহুর্ত তাকিয়ে থাকা বা জানলা খুলে বুক ভরে নিশ্বাস নেওয়া ও মনের বিকাশ ঘটায়। মন ও শরীরকে তাজা রাখে। এই সময় ফোনবিচ্ছিন্ন থাকবেন।
  • সারা সপ্তাহে একদিন অন্তত সামাজিক মেলামেশা করুন। পার্টি বা হৈ চৈ করার দরকার নেই। একজন কাছের বন্ধুর সাথেই না হয় দেখা করলেন। একটু গল্প আড্ডা প্রাণ খুলে হাসা। অসামাজিকতা ধীরে ধীরে মানসিক জড়তার জন্ম দেয়।
  • যাদের সাথে বহুদিন যোগাযোগ নেই তাদের সাথে একবার কথা বলুন। এক দুজন নতুন বন্ধু বানান। কে বলতে পারে আপনার সামনে হয়ত জীবনের কোনো আলোকিত পথ খুলে যেতে পারে।
  • সপ্তাহের ৬ দিন রুজি রোজগারের চেষ্টায় ব্যস্ততায় কেটে যায়। কিন্তু চেষ্টা করুন সপ্তম দিনটি শুধু পরিবারকে দিতে। প্রয়োজনে এই দিনটির জন্য আগে থেকে সময় ও কিভাবে কাটাবেন তার পরিকল্পনা করে রাখুন। পরিবারের মানসিক স্বাস্থ্য সুন্দর হলে আপনার জীবনও সুন্দর হতে বাধ্য।
  • সৃষ্টিশীল মানুষরা চেষ্টা করুন সকালের দিকে নিজেদের সৃষ্টিকারী কাজগুলো করার। গবেষণায় দেখা গেছে ঘুম ভাঙ্গার পর কর্টিসোল হরমোন শক্তির জোগান দিতে সাহায্য করে, ফলে মনসংযোগ বাড়ে। ফলে যে কোনো সৃষ্টি সুষ্ঠ ও সুন্দর হয়।
  • ধীরলয়ে ও নিম্ন স্বরে কথা বলার অভ্যাস করুন। এতে আপনার চারিত্রিক দৃঢ়তা প্রকাশ পায়। গাম্ভীর্য ও ব্যক্তিত্ব আপনার মত প্রকাশের গ্রহণযোগ্যতাকে কয়েকগুন বাড়িয়ে দেয়। এতে আপনার মানসিক প্রশান্তি আসে।
  • ছুটির দিনগুলো যাতে আনন্দমুখর হয় তার চেষ্টা করুন। ছোট ছোট পাওয়া খুশিগুলো জীবনের কঠিন সময়কে সহজে পার করে দেবার শক্তি দেয়।
  • মাঝে মাঝে কাজের স্থানের রদবদল করুন। সম্ভব হলে স্থান পরিবর্তন করুন। সম্ভব না হলে বসার স্থানের কিছু জিনিস পত্রের পরিবর্তন করে নতুনত্ব আনুন।
  • দিনের শেষে গিয়ে যদি এরকম বোধ হয় যে আজ সারাদিন কিছুই কাজের কাজ করিনি তারমানে আপনি সারাদিন বিভ্রান্তিমুলক কাজে ব্যস্ত ছিলেন। নিজেকে সামলে নিন। ফোন, বন্ধুর আড্ডা, বিনোদন ইত্যাদি থেকে নিজেকে কিছু সময় দূরে রাখুন। নিজেকে শান্ত করুন, গভীর নিশ্বাস নিন, মনসংযোগ করুন। ভেবে ঠিক করুন অতি প্রযোজনীয় কাজ কোনটি। ক্রম তৈরি করুন। এক এক করে করতে শুরু করুন। সব যে শেষ হয়েই যাবে তা নয়। কিন্তু শুরু করে দিন — করতে থাকুন — ঠিক শেষ হবে।
  • সুষম ও পরিমিত আহার গ্রহণ করুন। খাদ্য তালিকায় তাজা সব্জি, ফলের পরিমান বেশী রাখুন। সারাদিনে পর্যাপ্ত পরিমান জল খান। শরীরকে গ্লানিমুক্ত রাখতে জলে ভুমিকা অসাধারন। নেশাজাত দ্রব্য পরিত্যাগ করাই ভাল।
  • জীবনের প্রতি দায়িত্বশীল ও আশাবাদী হন। যে কোনো বিষয়ের মধ্যে ভাল খোঁজার চেষ্টা করুন ।খারাপ গুলো লক্ষ্য করুন যাতে সাবধান হতে পারেন, কিন্তু সেগুলোকে নাদেখা করে উপেক্ষা করাই মঙ্গল।
  • প্রাণ খুলে শিশুর মত হাসুন। কারনের অপেক্ষায় থাকবেন না। আসে পাশের যে কোনো ছোট বড় ঘটনায় হাসি খুঁজে নিন। হাসিখুশি থাকা জীবনের ইতিবাচক দিকগুলোর উন্মোচন ঘটায়।
  • মাঝে মাঝে ব্যস্তময় কর্মজীবন থেকে একটু লম্বা বিরতি নিন। এই সময় নিজের পছন্দের সেই কাজগুলো করুন যেগুলো ব্যস্ততা আপনাকে এতোদিন করতে বাধা দিয়েছে।
  • মাঝে মাঝে কিছু সামাজিক কাজে স্বেচ্ছাসেবকের কাজ করুন। মনে শান্তি পাবেন।
  • অন্যের কাজের প্রশংসা করতে শিখুন। নিন্দা করার মধ্যে কোনো বাহাদুরি নেই জানবেন। আপনার ছোট্ট একটু প্রশংসা অন্যকে অনেকখানি ভাল কাজ করতে অনুপ্রেরনা দেয়। অপরকে খুশি করার মত আনন্দের কাজ কমই আছে। অন্যের মুখে হাসি ফুটলে আপনিও হাসবেন।
  • কথা বলার থেকে কথা শোনায় বেশি মন দিন। একটি অর্থবহ ও পরিপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তুলতে গেলে আগে একজন ভাল শ্রোতা হওয়া দরকার। যদি অন্যের আস্থা অর্জন করতে চান তাহলে বিনা বাধায় অপর পক্ষের কথা মন দিয়ে শুনুন। তবেই তাঁর পরিস্থিতির সাথে একাত্ম হতে পারবেন। এতে সম্পর্ক দৃঢ় হবে।
  • নতুন প্রযুক্তির খোঁজ রাখুন। নিজেকে তার উপযুক্ত করে তুলুন। জীবনের অনেক সমস্যার সহজ সমাধানের চাবিকাঠি পেয়ে যাবেন।
  • গান শুনুন, বই পড়ুন। নিজের দৈনন্দিন জীবনের রোজনামচা লিখুন। ভারাক্রান্ত মন হাল্কা হয়ে যায়।
  • আয় ও ব্যয়ের মধ্যে সামঞ্জস্য রাখুন। আয়ের তুলনায় ব্যয় যেন অবশ্যই কম হয়। সঞ্চয়ের দিকে মনযোগী হওয়া একান্তই দরকার।
  • কোনোকিছুর জন্য নিজের মতাদর্শের জলাঞ্জলী দেবেন না। "না" বলতে শিখুন। নিজের মতের বা ইচ্ছার বিরুদ্ধে গিয়ে কাজ করবেন না। তাতে আখেরে আপনার মানসিক শান্তি নষ্ট হবে। নিজের সীমার বাইরে গিয়েও কিছু করবেন না। আপনি যা আপনি তাই থাকুন।
  • যোগা - প্রানায়ামের অভ্যাস করুন। এতে সুস্থ ও সুন্দর শরীর ও মনের অধিকারি হওয়া যায়। সুস্থ- সুন্দর শরীর ও মন সুন্দর জীবনের প্রতিফলন ঘটায়।

চিত্র সৌজন্যঃ গুগল 


 

 পদক্ষেপ 

লেখিকা -- শ্বেতলীনা 



মলয় শেষ বারের মত চেষ্টা করল বাবা মাকে বোঝানোর।যদি রাজী করানো যায় কোনোভাবে। কিন্তু কুহেলীর নাম উচ্চারণ করার সাথে সাথে বাবা প্রায় চিৎকার করে উঠলেন, “ না না না। কোনও ভাবেই আমি ওই ভিখারী বাড়ির মেয়েকে আমার বাড়ির বউ হতে দেব না। “

অসহায় দৃষ্টিতে  মলয় মায়ের দিকে তাকালো। যদি মা একটু বাবাকে বোঝান। কিন্তু মাও ঠোঁট বেঁকিয়ে বলে উঠলেন,” তোমার বাবার মতের ওপর তো কথা বলা উচিত হবে না। আর সত্যিই তো উনি তো কিছু ভুল বলেন নি। সমাজে আমাদের একটা প্রতিষ্ঠা তো আছে। “ মলয় তাও অনেক চেষ্টা করল বোঝানোর। কিন্তু বিধিবাম। কিছুতেই রাজী হলেন না বাবা মা।

কুহেলী আর মলয় কলেজ জীবনের বন্ধু। একসাথে কলেজ, ইউনিভারসিটি, চাকরি, সব সময় একসাথে পাশাপাশি।  থাকতে থাকতে কখন যে অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েছিল তা নিজেরাও বোঝেনি। সেই অর্থে কেউ কাউকে কোনোদিনও ভালোবাসার কথা জানায়নি। কিন্তু নিজেদের অনুভূতিগুলো একে অন্যের কাছে ব্যক্ত হয়ে গেছে চোখের ভাষায়, হাতের ছোঁয়ায়, যত্নে, ব্যাকুলতায়। দুজনের সামাজিক অবস্থানের পার্থক্য অনেকটাই। মলয় ব্যবসায়ী পরিবারের ছেলে। নামকরা ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের মালিক মলয়ের বাবা। অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্খী তিনি ও তাঁর স্ত্রী। নিজেদের এক ছেলে ও এক মেয়েকে নিয়ে নিজেদের সামাজিক প্রতিষ্ঠা আরও বাড়াতে চান। তাই মলয়ের দিদির বিয়েও দিয়েছেন নামকরা ব্যবসায়ী পরিবারে।

 অপরদিকে কুহেলীর বাবা চাকুরীজীবী। হিসাবের সংসারে দুই ছেলে মেয়েকে নিজের যথা সর্বস্ব দিয়ে মানুষ করেছেন। মলয়দের তুলনায় আর্থিক দিক থেকে অনেকটাই নিচে অবস্থান।আর পাঁচটা মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারের মতই তাঁদের অবস্থা। অবস্থানের পার্থক্যই মলয় ও কুহেলীর সম্পর্কের মাঝখানে প্রাচীর হয়ে দাঁড়িয়ে আছে আজ। দীর্ঘ দিনের সম্পর্ক যখন পরিণতি পাওয়ার জন্য দুই বাড়িতে আশীর্বাদ আশা করল, তখনই বিনা মেঘে বজ্রপাতের মত মলয়ের বাবা-মা সম্পর্ক মানতে অস্বীকার করলেন। তাঁদের মতে ওই রকম সামাজিক প্রতিষ্ঠাহীন আর্থিকভাবে দুর্বল এক পরিবারের মেয়ে তাঁদের পরিবারের বউ হয়ে আসার যোগ্য নয়। মলয় সেই মুহূর্তে হঠাৎ আবিষ্কার করল তাঁকে না জানিয়ে তাঁর অনুমতি না নিয়েই তাঁর বাবা-মা অন্য এক ব্যবসায়ী পরিবারের মেয়ের সাথে তাঁর বিয়ের পাকা কথা বলে রেখেছেন। মলয় প্রতিবাদ করলেও তা ধোপে টিকলো না।

সাত দিনের ছুটি নিয়ে শুধুমাত্র বাবা-মাকে রাজী করানোর জন্য মলয় দিল্লী থেকে ছুটে এসেছিল। আজ শেষ বারের মত তাই অনেক চেষ্টা করল। কিন্তু তাঁর যাবতীয় অনুরোধ উপরোধ অরণ্যে রোদনের মত বিফল হল। মলয় এবার মরিয়া হয়ে বলল , “ আমি কুহেলীকে ছাড়া অন্য কাউকে বিয়ে করব না।কিছুতেই না।“

মলয়ের বাবা হীমশীতল কণ্ঠে শেষ রায় ঘোষণা করলেন, “ আমি বেঁচে থাকতে ওই মেয়ে এই বাড়ির বউ হয়ে আসবে না। আমার বাড়িতে ওই বউকে আমি ঢুকতে দেবো না। এরপরেও যদি তুমি জেদ কর তাহলে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে যেতে পারো।“

মলয় আর দ্বিতীয় শব্দ উচ্চারণ না করে একবার মায়ের দিকে তাকিয়ে বুঝল তাঁর বক্তব্যও এক। মলয় উঠে দাঁড়িয়ে নিজের ঘরে গিয়ে সব জিনিস গুছিয়ে বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গেল।

বাড়ি থেকে বেড়িয়ে সোজা কুহেলীদের বাড়ি গেল। কুহেলীর বাবার কাছে হাতজোড় করে বলল,” আমায় ক্ষমা করুন আমি পারলাম না। এবার আপনারাও যদি পাশে না থাকেন তাহলে আমরা নিরুপায় হয়ে এই ভাবেই চলে  যেতে বাধ্য হব। যদি পাশে থাকেন তাহলে দুমাস পরে এসে আমি কুহেলীকে বিয়ে করে নিয়ে যাব।“


দু’মাস পর শুভদিনে কুহেলীর বাবা-মায়ের সম্মতিক্রমে মলয়-কুহেলী সাতপাকের বাঁধনে বাধা পড়ল।সেই থেকে দিল্লীতে তাঁদের নতুন সংসার। মলয়ের সাথে ওর পরিবারের কারোর কোনও যোগাযোগ নেই। এই ঘটনা কুহেলীকে খুবই কষ্ট দেয়। অপরাধবোধে আচ্ছন্ন রাখে।বেশ কয়েকবার চেষ্টা করেও তাঁদের মন বদলাতে পারেনি। যোগাযোগ ক্রমেই ক্ষীণ থেকে ক্ষীণতম হয়ে যায়।

বিয়ের প্রায় পাঁচ বছর পর মলয় হঠাৎ খবর পায় বাবার ব্যবসা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার।লেনদারদের পাওনা মেটাতে বাড়ি বন্দক দিতে হয়েছে। ভাড়াবাড়িতে থাকছেন বাবা-মা। সেখানেও খুবই কষ্টকর অবস্থা। কুহেলীও শোনে সব কথা। সিদ্ধান্ত নিতে এক মুহূর্ত সময় লাগে না কুহেলীর।


 আজ কুহেলী মলয়ের বাবার হাতে তুলে দেয় বন্দকমুক্ত করা বাড়ির দলীল। যে বাড়িতে তাঁকে ঢুকতে দেওয়া হয় নি, সেই বাড়িতে সে প্রবেশ করায় সেই মানুষদের,  যাঁদের চোখে সে “ভিখারী বাড়ির মেয়ে”। আজ সেই ভিখারী বাড়ির মেয়ের হাত থেকে বাড়ির দলীল হাত পেতে নিতে মলয়ের বাবার অসুবিধা হয়না। হয়তো আজ সামাজিক অবস্থান যে মানুষের পরিচয় বহন করেনা সেই শিক্ষা নতুন করে লাভ করেন। দলীল হাতে দিয়ে কুহেলী দৃপ্ত কিন্তু শান্ত পদক্ষেপে বাড়ির চৌকাঠ পেরিয়ে নিজের বাড়ির দিকে রওনা দেয়। মন আজ অপরাধ বোধ ও অপমানের থেকে ভারমুক্ত।"জীবনে কিছু পদক্ষেপ এমন নেওয়া উচিত যা মাথা উঁচু করে দেয়, আবার জীবনে এমন কিছু পদক্ষেপ নেওয়া উচিত নয় যা মাথা নিচু করে দেয়। তাই জীবনের প্রতিটি পদক্ষেপ মেপে এবং ভেবে চিন্তে নেওয়া উচিত",  কুহেলী মনে মনে বলে। 



চিত্র সৌজন্যঃ https://in.pinterest.com/pin/261419953342322187/

 

আলুর পকোড়া






বিকালের জলখাবারের সময় বাড়ির ছোট থেকে বড় সবাই একটু  ঝাল চটপটা মুখরোচক খাবার খেতে চান। রোজ এক খাবার খেতে কারোরই ভালো লাগে না। তাই বাড়ির গৃহিণীদের চেষ্টা থাকে নিত্যনতুন মুখরোচক কিছু বানিয়ে খাওয়াতে। আজ আমি একটা খুব সহজে বানানো যায় অথচ খুব মুখরোচক খাবার বানানোর প্রণালী বলব।


উপকরনঃ

  • আলু – ২ টি ( বড় মাপের)
  • পেঁয়াজ – ১টি ( মাঝারি মাপের, মিহি করে কুচানো )
  • ধনেপাতা কুঁচি – আধা কাপ
  •  আদা – ১ চামচ ( মিহি করে কুচানো)
  • কাঁচা লঙ্কা কুঁচি – ২ টি
  • বেসন – ৫০ গ্রাম
  • চালের মিহি গুঁড়ো – ২৫ গ্রাম
  • বিস্কুটের গুঁড়ো – ২০০ গ্রাম
  • নুন – পরিমাণ মত
  • ভাজা মশলা – ২ চামচ।
  • চাট মশলা – পরিমাণ মত
  • বিটনুন – পরিমাণ মত

 

প্রনালীঃ

  • প্রথমে আলু পরিষ্কার করে ধুয়ে মিহি করে ঘষে ( গ্রেট) নিতে হবে।গ্রেট করা আলু একটা পরিষ্কার কাপড়ে বা ছাঁকনিতে নিয়ে চেপে চেপে আলুর রস বার করে দিতে হবে।
  • একটা বড় পাত্রে গ্রেট করা আলুর সাথে সমস্ত উপকরণ ( চাট মশলা ও বিটনুন বাদ দিয়ে )খুব ভালো করে মেশাতে হবে।
  • হাতের মুঠোয় নিয়ে গোলকার আকৃতি করতে হবে।( যদি গোলাকৃতি না করা যায় তাহলে অল্প বেসন বা চালের গুঁড়ো মেশানো যাবে। )
  • কড়াইতে তেল মাঝারি গরম হলে অর্থাৎ তেলে আঙুল দেওয়া যাবে এই রকম উষ্ণ হলে একটা একটা করে পকোড়া ভাজতে হবে।
  • আগুন মধ্যম মানে রাখতে হবে। নাহলে পকোড়ার উপরটা পুড়ে যাবে আর ভেতরটা কাঁচা থেকে যাবে।
  • লাল লাল করে ভাজা হলে তুলে নিয়ে ওপরে বিটনুন ও চাট মশলা ছড়িয়ে সস দিয়ে বা মুড়ি সহযোগে পরিবেশন করতে হবে।
( বি.দ্র. নিরামিষ করতে চাইলে পেঁয়াজ বাদ দিয়ে করতে হবে। ) 



 ভালো থাকুন। সুস্থ থাকুন। 🍀 

চিত্র সৌজন্যঃ নিজস্ব 

 ফুচকা 





আমার  প্রিয়তম খাবার হল কলকাতার "ফুচকা"।এই একটিমাত্র খাবার যা আমি কখনো না বলিনা। কলকাতার ফুচকা বললাম কারণ ভারতের বিভিন্ন প্রদেশ ভ্রমণ করার সময় ফুচকা খেয়ে দেখেছি কলকাতার ফুচকার স্বাদই আলাদা। এই স্বাদ অন্য কোথাও পাইনি। স্থানভেদে এর নামও ভিন্ন-- গোলগাপ্পা, ফুলকি, টিক্কি, ফুচকা, গুপচুপ, বাতাসি, পাকাড়া, পানিপুরি, পাকোরি ইত্যাদি। ফুচকার ভেতরে দেওয়ার পুরেরও রকমভেদ আছে। আলুসেদ্ধর পুর, ঘুগনির পুর, আলু ঘুগনির পুর, এছাড়াও হরেকরকম। ঠিক তেমনভাবে ফুচকার সঙ্গী হয় কখনও তেঁতুল জল, আবার কখনও পুদিনার জল। এর পাশাপাশি দই ফুচকার নামও বিশেষভাবে উল্লেখ্য।

"ফুচকা" সৃষ্টির ইতিহাস জানতে যখন একটু খোঁজ খবর করলাম। তখন  অবাক হলাম জেনে যে এর আবিষ্কর্তা মহাভারতের দ্রৌপদী। কথিত আছে মহাভারতের সময়কাল। দ্রৌপদী তখন সদ্যবিবাহিতা। একদিন শাশুড়িমা কুন্তী যাচাই করতে চাইলেন যে অল্প কিছু উপকরণ দিয়ে তাঁর পুত্রবধূ দ্রৌপদী কতটা ভাল খাবার বানাতে পারেন। তাই তিনি একটু আলুর তরকারি ও ময়দামাখা দিয়ে দ্রৌপদীকে বললেন এমন কিছু খাবার বানাতে যা পঞ্চপাণ্ডবকে সমানভাবে তৃপ্ত করে। এটা হতে পারে যে কুন্তী চেয়েছিলেন স্বল্প উপকরণের মধ্যে বৌমার রন্ধনশিল্পের পরীক্ষা নিতে অথবা দেখতে চেয়েছিলেন পাঁচ ভাইয়ের মধ্যে কার প্রতি দ্রৌপদী পক্ষপাতিত্ব করেন। সেই ময়দামাখাকে সমানভাবে ভাগ করে ভেজে তুলে তার মধ্যে আলুর পুর দিয়ে দ্রৌপদী ফুচকা বা ফুলকা আবিষ্কার করে ফেললেন। বৌমার রন্ধন পারদর্শিতায় মুগ্ধ হয়ে কুন্তীর আশীর্বাদে সেদিনের সেই খাবারটি অমরত্ব লাভ করে।

অনেকেই স্বাস্থ্যের কথা ভেবে বাইরের রাস্তায় বিক্রি হওয়া ফুচকা খেতে চাননা।অনেকেই ভাবেন,' ইসস! যদি বাড়িতে বানাতে পারতাম। তাহলে আর বাইরের অস্বাস্থ্যকর খাবার খেতে হত না। '   

তাই আজ আমি বাড়িতে ফুচকা তৈরির প্রণালী জানালাম।খুবই সহজ আর সুস্বাদু। 

___________________________________________________________________________________________________________

ফুচকা তৈরির পদ্ধতি 

ফুচকা উপকরণঃ

·         সুজি – ২ কাপ

·         ময়দা – আধা কাপ।

·         জল – আধা কাপ

( বি.দ্র. ময়দা মাখার সময় নুন বা বেকিং পাউডার বা খাবার সোডা একেবারেই দেওয়া চলবে না।)

আলুর পুরের উপকরণঃ

·         আলু সেদ্ধ – ৫০০ গ্রাম

·         ঘুগনি মটর – ১০০ গ্রাম

·         ধনেপাতা – ২৫ গ্রাম  ( মিহি করে কুচোনো)

·         ভাজা মশলা – ২ চামচ

·         বিট নুন – আধা চামচ

·         লঙ্কাগুঁড়ো – আধা চামচ

·         কাঁচা লঙ্কা কুঁচি – এক চামচ


তেঁতুল জলের উপকরণঃ

·         পাকা তেঁতুলের ক্বাথ – এক কাপ

·         সয়া সস – ১ চামচ

·         বিটনুন – ২ চামচ

·         গন্ধরাজ লেবুর রস – ১৫ মিলি

·         ভাজা মশলা – ২ চামচ

·         লেবু পাতা – ৫/৬ টা

·         জল – ১ লিটার


পদ্ধতিঃ

·         আলুর পুরের সমস্ত উপকরণ একসাথে ভালো করে মিশিয়ে নিতে হবে।

·         তেঁতুলের জলের  সমস্ত উপকরণ আলাদা পাত্রে মিশিয়ে নিতে হবে।

·         ফুচকার জন্য ময়দা ও সুজিকে একসাথে অল্প অল্প জল মিশিয়ে শক্ত করে মাখতে হবে।

·         আধা ঘণ্টা ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে। তারপর আবার ভালো করে মাখতে হবে।

·         সুজি মাখা মসৃণ মণ্ডে পরিণত হওয়া অবধি মাখতে হবে। আধা ঘণ্টা আবার ঢাকা দিয়ে রাখতে হবে।


·       এরপর লেচি কেটে বড় বড় রুটির আকারে বেলে, ছোট গলাকার আকৃতির কুকি কাটার দিয়ে ছোট ছোট আকৃতির ফুচকা কেটে নিতে হবে।

·         কেটে নেওয়া ফুচকাগুলো থালায় করে ৫/৭ মিনিট হাওয়ায় শুকিয়ে নিতে হবে।



·         কড়াইতে তেল ভালো করে গরম হলে একসাথে ৪-৫ টি ফুচকা ভাজতে হবে। দুই দিক ভালো করে লাল হওয়া অবধি ভেজে তুলে নিতে হবে।

·         প্রয়োজনে কৌটা বা পলিথিন ব্যাগের মধ্যে করে সপ্তাহ খানেক রাখা যায় ।



পরিবেশন পদ্ধতিঃ

ভাজা ফুচকা আঙ্গুলের  একটু চাপ দিয়ে ভেঙ্গে নিয়ে তারমধ্যে আলুর পুর ও তেঁতুলের জল দিয়ে খেতে হবে।  


ভালো থাকুন। স্বাস্থ্যের দিকে নজর দিন। 🍀


তথ্যসুত্রঃ 

https://bn.wikipedia.org/wiki/%E0%A6%AB%E0%A7%81%E0%A6%9A%E0%A6%95%E0%A6%BE

চিত্রসুত্রঃ নিজস্ব 



নবীনতর পোস্টসমূহ পুরাতন পোস্টসমূহ হোম

আমার কথা

বেশ কিছু পথ পার হয়ে আসা জীবনের অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার থেকে কিছু মুহূর্তের প্রতিচ্ছবি। সাথী বর্তমান ও আগামী দিনের পরিকল্পনা।.


জানা-অজানা

অনুসরণকারী

বিভাগ

  • অনুগল্প 6
  • গল্পকথা 10
  • চিত্রকলা 2
  • নারীর জগৎ 6
  • বইপত্র 6
  • রান্নাঘর 5
  • শিশুর জগৎ 6
  • স্ব-উন্নয়ন 5

.

BLOGGER দ্বারা পরিচালিত

Designed by OddThemes | Distributed by Gooyaabi Templates